দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি, শিক্ষাবিদ ও শিশুসাহিত্যিক কাজী কাদের নওয়াজের স্মৃতিবিজড়িত বসতবাড়ি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সাহিত্যিক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, গেজেটভুক্ত হওয়ার পরও বাড়িটির সংরক্ষণ ও সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
মাগুরা শহর থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে শ্রীপুর উপজেলার মুজদিয়া গ্রামে কবির বসতবাড়ি। বাড়ির পাশেই রয়েছে তাঁর সমাধি। জীবনের শেষ সময় তিনি এই গ্রামেই কাটিয়েছেন এবং এখান থেকেই সাহিত্যচর্চা করেছেন। তবে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বাড়িটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, কবি কাজী কাদের নওয়াজের বসতবাড়িটি ইতোমধ্যে সরকারি গেজেটভুক্ত হয়েছে। কিন্তু গেজেট প্রকাশের পরও সংরক্ষণ, সংস্কার কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
কাজী কাদের নওয়াজ ১৯০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের তালেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে। শিক্ষকতা জীবনে তিনি নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে দিনাজপুর জেলা স্কুলে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে অবসরের পর মাগুরার মুজদিয়া গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯৮৩ সালের ৩ জানুয়ারি সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
'শিক্ষাগুরুর মর্যাদা'সহ তাঁর অসংখ্য কবিতা ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।
মাগুরার ইতিহাস ও ঐতিহ্য গবেষক ডা. কাজী তাসুকুজ্জামান বলেন, রবীন্দ্র-নজরুল যুগের কবি হয়েও কাজী কাদের নওয়াজ নিজস্ব ভাষা ও কাব্যভঙ্গিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।
লেখক ও বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুসাফির নজরুল বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে এই গুণী কবির জীবন ও সাহিত্য তুলে ধরতে তাঁর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ জরুরি।
প্রবীণ সাহিত্যিক বিকাশ মজুমদার বলেন, কাজী কাদের নওয়াজ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি সংরক্ষণে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) কাজী মাজেদ নওয়াজ বলেন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাড়িটি সংরক্ষণ বা অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিলে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
মাগুরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অসীম কুমার রায় বলেন, বাংলা সাহিত্যের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ কবির স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি অযত্নে পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুবুল হক বলেন, কবি কাজী কাদের নওয়াজের বসতবাড়ি গেজেটভুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, শুধু গেজেটভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; দ্রুত সংরক্ষণ, সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বাড়িটিকে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার একটি স্মৃতিকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
যে আই